সরকারী কর্মচারীদর বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে প্রস্তাবিত দফাসমূহ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
১। বিদ্যমান বিধিমালা অনুসারে পদোন্নতির যোগ্য সকল কর্মচারীকে নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাগণকে সহকারী সচিব (ক্যাডার) পদে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে সচিবালয়ে বিদ্যমান শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সমপদে পদায়ন করতে হবে। (নিয়মিত পদোন্নতি প্রদান করা হলে একজন অফিস সহায়কও সহকারী সচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে চাকরীজীবন শেষ করার সুযোগ পাবে)।
২। বিদ্যমান বেতনস্কেল এর ২০ ধাপকে কমিয়ে নিম্নরূপভাবে ১০ ধাপে বেতন স্কেল প্রণয়নসহ দ্রুত কমিশন গঠন করে নিয়মিত পে-স্কেল প্রদান এবং দেশের মূল্যস্ফিতি ও জীবনমান বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য বেতন / ইনক্রিমেন্ট প্রদানের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
১ম সচিব/সিনিয়র সচিব/সমমান
২য় অতিরিক্ত সচিব/সমমান
৩য় যুগ্মসচিব/সমমান
৪র্থ উপসচিব/সমমান
৫ম সিনিয়র সহকারী সচিব/সমমান
৬ষ্ঠ সহকারী সচিব/সমমান
৭ম পূর্ববর্তী ১০ম গ্রেড
৮ম পূর্ববর্তী ১১-১৩তম গ্রেড
৯ম পূর্ববর্তী ১৪-১৬তম গ্রেড
১০ম পূর্ববর্তী ১৭-২০তম গ্রেড
৩। প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারীকে বিনা সূদে লোন প্রদান করা যাবে না। রাজস্বের প্রতিটি টাকায় জনগণের কন্ট্রিবিউশন রয়েছে। জনগণের টাকা দিয়ে গাড়ি ক্রয়ের নাম করে বিনা সূদে লোন প্রদান এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রতিমাসে অর্ধলক্ষ টাকা প্রদান বন্ধ করতে হবে। যে সকল কর্মচারীকে লোন দেয়া হয়েছে সে সকল কর্মচারীর লোনের উপর সূদ আরোপ করতে হবে।
৪। রাজনৈতিক এপিএস নিয়োগ প্রদান করা যাবে না। সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী / প্রতিমন্ত্রী / উপমন্ত্রী’র জন্য এপিএস নিয়োগের বিধি অনুসারে সরকারি কর্মচারীর মধ্য থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
৫। সকল কর্মচারীর জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, বিবিধ সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পদ পদবী অনুসারে আনুপাতিক হারে সকল স্তরের কর্মচারীকে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে একটি দক্ষ জনবল তৈরী হয়।
এসময় তাঁরা আরো বলেন, উপসচিব পর্যাদার কর্মকর্তাদের বিনা সূদে ৩০ লক্ষ টাকা গাড়ি ক্রয়ের জন্য লোন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিমাসে বেতনের সাথে ৫০ হাজার টাকা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষনের জন্য প্রদান করা হয়। অথচ সবাই অফিসের গাড়ি ও ড্রাইভার ব্যবহার করেন। প্রকান্তরে ৩০ লক্ষ টাকার মওকূফকৃ সূদ এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৭৫ হাজার টাকার সুবিধা দেয়া হয়। এটা একটা বিশাল বৈষম্য। লোনের নামে প্রতিটি কর্মকর্তা তার চাকরীজীবনে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার একটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
সূদবিহীন লোনের উপর সূদ অারোপ করা হলে যে রাজস্ব পাওয়া যাবে তা দিয়ে নিচের গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য কমানো সম্ভব। এতে করে সরকারের বাজেটের ওপর চাপ কমবে।