মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): অন্তহীন সমস্যার সাথে আলিঙ্গন করে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে চলছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের আয়েশ-হামিদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিও ভূক্ত না হওয়ায়
একদিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে তেমনি ভবন নির্মাণ কিংবা বেঞ্চ-টেবিলসহ আসবাবপত্রের জন্য আজও পায়নি সরকারি কোন অনুদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে মোজাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা,ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও শিক্ষানুরাগী আয়েশা আক্তার তার দুই বোনের নামে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আয়েশা-হামিদা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে বিদ্যালয়টি নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে যাত্রা শুরু করা হলেও ২০১৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার প্রতিষ্ঠাতা নিজেই বহন করতেন। তিনি গত ৩ মে মাসে ইন্তেকাল করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিবাবক মহলে হতাশ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠাতার ভাগনে ও নৌ-বাহিনী ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ রনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে খালার অবর্তমানে বিদ্যায়লটির সার্বিক পরিচালনার দ্বায়িত্ব নেওয়ার ঘোষনা দেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিবাবক মহলের মনে স্বস্থি ফিরে আসে।
৭৫ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে জরাজির্ণ ৩টি টিনশেড ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চলে। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২ শত ৫০ জন। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন ৮ জন। এছাড়াও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (আয়া) রয়েছেন একজন করে।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও উপজেলার অজপাড়া গায়ে প্রতিষ্ঠিত নারী শিক্ষা এ বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান তুলনামূলক অনেক ভালো। ফলাফলও আশানুরূপ। এ বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৪ পারসেন্ট।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়তুন রশিদ ভূইঁয়া জানান, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টি এমপিও ভূক্তকরণ না হওয়ায় মেধাবী শিক্ষকদের ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠাতার পক্ষ থেকে যে সম্মানী ভাতাটুকু পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। তাই জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা নিকট আকুল আবেদন অজপাড়া গায়ে প্রতিষ্ঠা হওয়া একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিত্বে এমপিও ভূক্তকরণ করে নারী শিক্ষা প্রসার ও বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধূরী জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ লেখাপড়ার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য। তবে লেখাপড়ার গুণগত মান বৃদ্ধির পূর্ব শর্ত হল অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তাই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির যাবতীয় সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠাতার ভাগনে ও নৌ-বাহিনী ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ রনি বলেন, নারী শিক্ষা উন্নয়নের জন্য আমার খালা ( আয়েশা আক্তার) এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা তিনিই বহন করতেন। খালা বেঁচে থাকতে এই বিদ্যালয়টিই ছিল তাঁর প্রাণ।
অনেক স্বপ্ন দেখতেন বিদ্যালয়টি ঘিরে। তিনি ভাবতেন যারা এসএসসি পাশ করবে তারই একদিন গ্রেজুয়েট হবে। এভাবে চলতে থাকলে একটি সময়ে পুরো গ্রামের মেয়েরা গ্রেজুয়েট হবে। আর একটা গ্রেজুয়েট মেয়ের স্বামী অবশ্যই গ্রেজুয়েট হবে। আমরা প্রয়াত খালার স্বপ্ন সফল করতে চেষ্ঠা করে যাব।